Home » Result » পরীক্ষার খাতায় লেখার নিয়ম

পরীক্ষার খাতায় লেখার নিয়ম

পরীক্ষার খাতায় লেখার নিয়ম

পরীক্ষার খাতায় কিভাবে লিখবেন সেটাই অনেকে এখনো ঠিক মত জানে না। সঠিক ও সুন্দর একটা খাতা ভালো একটা নম্বর নিয়ে আসে। আর যে খাতায় কোনো টেকনিক ফলো না করে লিখা হয় সে খাতা কম নম্বর পায়। এজন্য অনেক সময় দেখা যায়, আপনার বন্ধু আপনার থেকে দেখে দেখে লিখেও ভালো নম্বর পেয়ে গেছে। কারণ তার খাতার লেখার টেকনিক আপনার থেকে সম্পর্ণ ভিন্ন ছিলো। আজ পরীক্ষার খাতায় লেখার নিয়ম, করনীয় এবং পরীক্ষা ভালো হওয়া নিয়ে বেশ কিছু টেকনিক নিয়ে আলোচনা করবো।

পরীক্ষার খাতায় লেখার নিয়ম

খাতা পাওয়ার পর করণীয়ঃ পরীক্ষার খাতায় লেখার নিয়ম

ক ) পরীক্ষার হলে খাতা পাওয়ার পর প্রথমে নিজের নাম , রোল , শ্রেণী ইত্যাদি নির্ভূল ভাবে লিখতে হবে।

খ ) খাতার প্রতি পৃষ্টার বাম পাশে ও উপরে এক ইঞ্চি পরিমাণ জায়গা ফাকা রেখে মার্জিন টানতে হবে। এতে খাতার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।

গ ) প্রতি পৃষ্ঠার উপরে বা নিচে ক্রমিক নম্বর ও ধারাবাহিক ভাবে বসানো যেতে পারে। এতে খাতার সৌন্দর্য বাড়ে এবং পৃষ্টা ভুল হওয়ার চান্স কম থাকে।

পরীক্ষার খাতায় উত্তর লেখার কয়েকটি নিয়মঃ পরীক্ষার খাতায় লেখার নিয়ম

ক ) ধারাবাহিক ভাবে সকল প্রশ্নের উত্তর লেখা উত্তম। তবে যদি কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকে, যেটা ভালো জানা থাকবে তার উত্তর আগে লিখবে। যে প্রশ্নের উত্তর ভাল ভাবে জানা নেই, সেটা সব শেষে লিখতে হবে।

খ ) বড় প্রশ্নের উত্তর যেখানে শেষ হবে, ঐ পাতায় অন্য প্রশ্নের উত্তর না লেখা উত্তম। তবে, ছোট প্রশ্নের ক্ষেত্রে যদি জায়গা থাকে, আর উত্তর লিখলে যদি পৃষ্ঠার সৌন্দর্য নষ্ট না হয়, তবে আরেকটি প্রশ্নের উত্তর লেখা যেতে পারে।

গ ) একটা প্রশ্নের উত্তর লেখা সম্পূর্ণ শেষ করে নিচে একটি সরল দাগ দিয়ে প্রশ্নের উত্তর সমাপ্ত বোঝানো উচিত।

ঘ ) যদি একই পৃষ্ঠায় একাধিক প্রশ্নের উত্তর লেখতে হয়, তবে দু’আঙ্গুল ফাঁকা রেখে অন্য প্রশ্নের উত্তর লেখা শুরু করতে হবে যাতে দেখতে সুন্দর লাগে। যা একস্ট্রা মার্ক নিয়ে আসে।

ঙ ) সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় অবশ্যই সাব নাম্বার গুলোর উত্তর ধারাবাহিক ভাবে লিখতে হবে। যেমন , ক  এর উত্তর এর পর খ এর উত্তর। বাকি প্রশ্ন গুলো ও এভাবে ধারাবাহিক ভাবে লিখতে হবে।

চ ) প্রশ্নের নম্বর পৃষ্ঠার মাঝামাঝি তে লেখা উচিত। মার্জিন এর বাহিরে লেখা ঠিক নয়।

ছ ) প্রশ্নের উত্তর শুদ্ধ ও সহজ ভাষায় লিখতে হবে।

জ ) একই রীতিতে লিখতে হবে। অর্থাৎ , সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ করা যাবেনা। এতে যেমন গুরু-চন্ডালী দোষ হয় তেমনি খাতাটি সম্পর্কে নিরিক্ষকের একটা বিরূপ ধারণা মাথায় নিয়ে ফেলে, যার ফলে মার্ক কমে।

ঝ ) সময় ভাগ ভাগ করে লিখতে হবে। যদি পরীক্ষার সময় ৩ ঘন্টা হয় এবং ৭টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়, তবে সময় কে আপনি নিজের  মত ভাগ করে নিবেন। এতে সহজেই সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আসা যায়। পরীক্ষার হলে টাইম মেনেজমেন্ট টা খুবই জরুরি।

খাতার পরিচ্ছন্নতাঃ পরীক্ষার খাতায় লেখার নিয়ম

খাতা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখাও একটা টেকনিক। যা খুবই উপকারী, এবং বেশ কিছু মার্ক এর জন্যই পাওয়া যায়।

ক ) পরিক্ষার খাতাটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত।

খ ) খাতা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হলে, পরিক্ষকের মন জয় করা সহজ হয়, যা অধিক নম্বর প্রাপ্তিতে সহায়তা করে।

গ ) খাতা পরিষ্কার রাখতে হলে, কাটাকাটি করা যাবেনা। কাটাকাটি করলে খাতার সৌন্দর্য নষ্ট হয় এবং নম্বর কমে।

ঘ ) ওভার-রাইটিং করা যাবেনা।

ঙ ) কোনো শব্দের বানান ভুল হলে, শুধুমাত্র একটি টান দিয়ে কেটে ফেলতে হবে। এবং পাশে তার সঠিক বানান টি লিখতে হবে।

প্রশ্নের উত্তর লেখার ক্ষেত্রে আরো কয়েকটা টিপস যোগ করলে বেশ ভালো হয়। টিপস সেগুলো হল:-

১) ভূমিকা আর উপসংহার আপনার নিজের ভাষায়, নিজের মত করে লিখতে পারেন। অবশ্য চাইলে কারো উক্তি কিংবা কোনো বইয়ের বিশেষ লাইন যেটা আপনার উত্তর এর সাথে যায় এমন কিছু উক্তি ব্যবহার করতে পারেন। পরীক্ষকের কাছে শুরুতেই আপনার সম্পর্কে একটা পজিটিভ ইম্প্রেশান তৈরিতে চমৎকার একটা ভূমিকা ভাল কাজে দিতে পারে।

২) আনুষঙ্গিক রেফারেন্স বই, স্যারের ক্লাস লেকচার ইত্যাদি থেকে লেখার পাশাপাশি উত্তরের একটা অংশে আপনার নিজস্ব পর্যবেক্ষণ/যুক্তি/অভিমত তুলে ধরতে পারেন। এতে করে স্যারের কাছে আপনার চিন্তা ভাবনা প্রকাশ পাবে এবং আপনার সম্পর্কে স্যারের একটা পজিটিভ ধরণা তৈরি হবে।

৩) বাংলাদেশ সমাজ থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে একাধিক উদাহরণ দিতে পারলে ভাল নম্বর পেতে সহায়ক হবে।

৪) উত্তরপত্তে সাইটেশান, কোটেশান, চার্ট, ডায়াগ্রাম, পরিসংখ্যানিক তথ্য-উপাত্ত চাইলে ব্যবহার করতে পারেন অথবা এসবের ব্যবহার ব্যতীত আপনি আপনার নিজের মত করেও লিখতে পারেন। তাই, আপনার উত্তরপত্র সৃজনশীল হলে এবং তাতে শক্তিশালী ও ক্রিটিকাল আর্গুমেন্টসের উপস্থিতি থাকলে ভাল নম্বর না পাওয়ার কোন কারন নাই।

৫) এক কথায় যেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, তা যত সংক্ষেপে লেখা যায়। এখানে প্যাঁচালেই বিপদ।

৬)  ইংরেজি ও বাংলা রচনা শেষে লেখাই উত্তম। কারণ, তা সর্বাধিক নম্বর বহন করে।

৭) লেখার সময় বানান ভুল হচ্ছে কি না মাথায় রাখবেন। যতটা সম্ভব এড়িয়ে যাবেন। সিনিয়র স্যাররা এতে খুব বিরক্ত হন।

৮ ) যে কোনো চিত্র পেনসিল দিয়ে আঁকবেন। ফ্রিহ্যান্ডে আঁকাই উত্তম।

৯ ) বর্ণনা মূলক প্রশ্নে পারলে ছক দিয়ে তথ্য উপস্থাপন করবেন। ছকটা তৈরি করবেন নীল কালিতে আর লিখবেন কালো কালিতে। এতে পরীক্ষক সহজে বুঝতে পারবেন।

১০ ) জেল জাতীয় কালির কলম ব্যবহার না করাই উত্তম। এতে অন্য পৃষ্ঠাও নষ্ট হয়ে যায়।

১১ ) ভুল ক্রমে যদি কোনো পৃষ্ঠা রেখে পরবর্তী পৃষ্ঠায় লিখে ফেলেন, তবে ফাঁকা পৃষ্ঠায় একটা দাগ টেনে দেবেন।

১২ ) প্রতিটি নম্বরের জন্য কত সময় পান, তা আগেই হিসাব করে রাখবেন এবং সেই পরিমাণ সময় তাতে ব্যয় করবেন। যদি বরাদ্দ কৃত সময় কিছু বেঁচে যায়, তবে তা পরবর্তী কোনো প্রশ্নে ব্যবহার করতে পারেন।

পরীক্ষায় ভালো করার পরামর্শঃ পরীক্ষার খাতায় লেখার নিয়ম

পরীক্ষায় ভালো করা যতটা না প্রস্ততির ব্যপার তার চেয়ে বেশি নির্ভর করে নিজের উপর। নিজে পরীক্ষার হলে কেমন ভাবে, কি টেক নিক গুলোর উপর ভিত্তি করে পরীক্ষা দিচ্ছেন সেটাই প্রথম ও প্রধান বিষয়। 

১. টেনশনমুক্ত থাকতে হবে

পরীক্ষা কক্ষে টেনশনমুক্ত ও স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করতে হবে। দুশ্চিন্তা পরীক্ষার হলে ভালো পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা। অনেক শিক্ষার্থী অতিরিক্ত টেনশনের কারণে অনেক জানা প্রশ্নের উত্তরও সঠিকভাবে করতে পারে না। প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর বাইরের সব চিন্তা বাদ দিয়ে প্রশ্নপত্রে 

মনোযোগ দিতে হবে। প্রশ্নপত্রে অন্তত একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে উত্তর করা শুরু করতে হবে।

২. কেমন হবে উত্তরপত্র 

উত্তরপত্রের ওপরে এক ইঞ্চি, নিচে এক ইঞ্চি, ডানে এক ইঞ্চি রেখে লেখা শুরু করলে ভালো হয়। মার্জিন ব্যবহার করতে পারেন। মার্জিন টানার জন্য পেনসিল ব্যবহার করা যেতে পারে। উত্তরপত্রে বিভিন্ন প্রশ্নের নম্বর লেখার পর এর নিচে সাইনপেন দিয়ে দাগ টেনে দিতে পারেন। কালো, নীল কিংবা সবুজ রংয়ের সাইনপেন ব্যবহার করা ভালো। কোনোভাবেই লাল রং ব্যবহার করা যাবে না। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।

৩. প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর

প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর পুরো প্রশ্নটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। কোনো প্রশ্ন আংশিক পরিবর্তন করে দেওয়া হলো কি না তা খেয়াল রাখতে হবে। প্রশ্নপত্র দেখে মনে মনে পুরো পরীক্ষার পরিকল্পনা করবেন। আপনি কিভাবে শুরু করবেন এবং কিভাবে শেষ করবেন, তার ছক করে নিলে পরীক্ষা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

৪. সময় বণ্টন

প্রশ্নের মান অর্থাৎ নম্বর অনুযায়ী কতটুকু লিখতে হবে, তা নির্ধারণ করেই লেখা শুরু করতে হবে। বেশি  নম্বরের প্রশ্নগুলো যতটুকু সম্ভব ভালো করে দেওয়া উচিত, তবে তা হতে হবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। একটি রচনা মূলক প্রশ্নের জন্য সাধারণত ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি সময় নেওয়া উচিত নয়। আর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরের জন্য ছয় মিনিট বরাদ্দ রেখে লিখতে পারলে ভালো হয়। তবে এটি নির্ভর করবে প্রশ্নের মানের ওপর।

৫. প্রশ্ন নির্বাচনও গুরুত্ব পূর্ণ

যেসব প্রশ্নের উত্তর ভালো জানা আছে এবং বেশি নম্বরের, সেগুলো আগে লেখা টাই বুদ্ধিমানের কাজ। পরীক্ষক যখন খাতা মূল্যায়ন করবেন তখন শুরুতেই লেখার মান ভালো দেখলে শিক্ষার্থীর প্রতি ইতিবাচক ধারণা আসবে। এতে ওই বিষয়ে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে। তুলনা মূলক সহজ ও জানা প্রশ্নের উত্তর পর্যায়ক্রমে অর্থাৎ পরপর লেখাই ভালো।

৬. উত্তরপত্র পরিচ্ছন্ন হতে হবে

ভালো নম্বর পেতে হলে ওভাররাইটিং, কাটাছেঁড়া, অস্পষ্ট লেখা পরিহার করতে হবে। লেখায় কোনো ভুল হলে একটি সমান্তরাল দাগে কেটে দিতে হবে। লেখার ভাষা সহজ-সরল ও প্রাঞ্জল হওয়াই ভালো। গণিত ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন চিহ্ন ও চিত্র স্পষ্ট করে লিখতে হবে। একটি প্রশ্নের উত্তর লেখা শেষ হলে পরবর্তী পৃষ্ঠায় পরের প্রশ্নের উত্তর শুরু করাই ভালো। পয়েন্ট আকারে লিখলে বেশি নম্বর পাওয়া যায়। এ ছাড়া প্রশ্নের উত্তরে ধারাবাহিকতা ভালো ফলের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়।

৭. লেখা অযথা বড় করা যাবে না

বেশি লিখলে বেশি নম্বর পাওয়া যায়, এটি একটি ভুল ধারণা। অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক লিখে উত্তর বড় করার চেয়ে প্রাসঙ্গিক ও যথাযথ ছোট উত্তরেই বেশি নম্বর পাওয়া যায়। অপ্রাসঙ্গিক উত্তর লিখে খাতা ভরলে সময় নষ্ট হবে, বেশি নম্বর পাওয়া যাবে না। অনেকেই কয়েক লাইনে এক পৃষ্ঠা শেষ করে পরবর্তী পৃষ্ঠায় লেখা শুরু করেন। পরীক্ষক রা এতে বিরক্ত হন। আবার খুব সংক্ষিপ্ত ও উত্তরে প্রয়োজনীয় অংশ না থাকলেও কাঙ্ক্ষিত নম্বর পাওয়া যায় না। আকর্ষণীয় ভূমিকা ও উপসংহার ভালো নম্বর পাওয়ার প্রধান শর্ত।

৮. প্রশ্ন কমন না পড়লে

কমন প্রশ্নের উত্তর লেখা শেষ হওয়ার পর যথেষ্ট সময় থাকলেই আনকমন প্রশ্নে হাত দেওয়া উচিত। ক্লাসে শিক্ষক এ বিষয়টির ওপর আলোচনা করেছিলেন কি না তা মনে করার চেষ্টা করতে হবে। যতটুকু মনে পড়ে ততটুকুই সাজিয়ে লেখা যেতে পারে। তবে বেশি অনুমাননির্ভর না হওয়াই ভালো। কোনো বিষয়ে ভালো ধারণা না থাকলে বানিয়ে লিখলে ভালো নম্বর পাওয়ার আশা করা যায় না।

পরীক্ষার খাতায় লেখার নিয়ম

৯. লেখার শেষে রিভিশন

রিভিশনের জন্য শেষ ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় হাতে রাখতে হবে। এ সময় সবার আগে লক্ষ করতে হবে প্রশ্নের সঙ্গে উত্তরপত্রে লেখা ক্রমিকের মিল আছে কি না। প্রশ্নের কোনো অংশের ক্রমিকও (যেমন ‘ক’ বা ‘খ’) ঠিকমতো লেখা হয়েছে কি না দেখতে হবে। ক্রমিক নম্বর ভুল হলে নম্বর না পাওয়ার আশঙ্কাই বেশি। এ ছাড়া কোথাও কোনো ভুল আছে কি না কিংবা কোনো প্রশ্ন বাদ পড়ল কি না, মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*