Home » Result » বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার যোগ্যতা

বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার যোগ্যতা

বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার যোগ্যতা

বুয়েটের ক্যাম্পাস অনেকের স্বপ্নের। প্রতি বছর কইয়ে লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি পরীক্ষার অংশগ্রহন করে। কিন্তু অনেকেই সঠিক গাইড লাইন এর জন্য অনেকের উত্তির্ণ হয় না। আর আজ নিয়ে এলাম বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার যোগ্যতা , সাজেশন এবং প্রস্ততি নিয়ে বিস্তারিত।

বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার যোগ্যতা

যোগ্যতাঃ

প্রার্থীকে বাংলাদেশের যে কোন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড/মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড/কারিগরি শিক্ষা বোর্ড বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গ্রেড পদ্ধতি তে জিপিএ ৫.০০ এর স্কেলে কম পক্ষে জিপিএ ৪.০০ পেয়ে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট/দাখিল/সমমানের পরীক্ষায় পাশ অথবা বিদেশী শিক্ষা বোর্ড থেকে সমমানের পরীক্ষায় কম পক্ষে সমতুল্য গ্রেড পেয়ে পাশ করতে হবে।

প্রার্থীকে বাংলাদেশের যে কোন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড/মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড/কারিগরি শিক্ষা বোর্ড  বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়সমূহের প্রতিটিতে জিপি ৫.০০ পেয়ে এবং ইংরেজি ও বাংলা বিষয় দুটির প্রতিটিতে ন্যূনতম জিপি ৪.০০ পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক/ আলীম/ সমমানের পরীক্ষায় পাশ অথবা বিদেশী শিক্ষা বোর্ড থেকে সমমানের পরীক্ষায় কমপক্ষে সমতুল্য গ্রেড পেয়ে পাশ করতে হবে।

সকল সঠিক আবেদনকারীর মধ্য হতে নিম্নে উল্লেখিত নির্ধারিত মানের ভিত্তিতে বাছাই করে প্রথম থেকে ৮৫০০তম পর্যন্ত সকল আবেদনকারীকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে। এই বাছাইয়ের জন্য যথাক্রমে আবেদনকারীর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ইংরেজিতে প্রাপ্ত জিপি, বাংলায় প্রাপ্ত জিপি, মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ এবং মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ (অতিরিক্ত বিষয় ব্যতীত)-কে অগ্রাধিকারের ক্রম হিসাবে বিবেচনা করা হবে।

GCE “O” লেভেল এবং GCE “A” লেভেল পাশ করা প্রার্থীদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য GCE “O” লেভেল পরীক্ষায় কমপক্ষে পাঁচটি বিষয় (গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন এবং ইংরেজিসহ) এর প্রতিটিতে কমপক্ষে B গ্রেড এবং GCE “A” লেভেল পরীক্ষায় গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন এই তিন বিষয়ের প্রতিটিতে কমপক্ষে A গ্রেড পেয়ে পাশ করতে হবে।

ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে GCE “O” লেভেল এবং GCE “A” লেভেল পরীক্ষার ফলাফল প্রাপ্ত সকল সঠিক আবেদনকারীকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হবে।

ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠী ভুক্ত সকল সঠিক আবেদনকারী কে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হবে।

পরীক্ষার প্রস্ততি নিয়ে কিছু কথাঃ

বুয়েটে এর ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রতিটি রচনা মূলক প্রশ্নের জন্য গড়ে প্রায় আড়াই থেকে তিন মিনিট সময় পাওয়া যায়। তাই এই কম সময়ের মধ্যে সব প্রশ্নের উত্তর করা প্রায় অসম্ভব। তাই যেসব প্রশ্নের সমাধান জানা আছে অথবা সহজে সমাধান করতে পারা যাবে বলে মনে হয় সেগুলোর আগে উত্তর করা উচিত।

বুয়েট এর ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ ভাগ উত্তর করে আসা অনেকটা কঠিন। ৬০০ নম্বরের মধ্যে ৪০-৫০ নম্বরের উত্তর না করেও বুয়েটে চান্স পাওয়া সম্ভব। তাই সব প্রশ্নের উত্তর করে আসব- এই চিন্তা নিয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়া এক ধরনের বোকামি। বরং এই টার্গেট রাখা উচিত,আমি যা পারি তা সঠিক ভাবে দিয়ে আসব।

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষার পরের কয়েকটি মাস। এই সময়ের সঠিক প্রস্তুতির আর দিক নির্দেশনাই বয়ে আনতে পারে কাঙ্খিত ফল। না বুঝে অযথা দিন-রাত প্রচুর পড়াশোনা হয়তো অনেকেই করে,কিন্তু দেখা যায় সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে আশানুরূপ ফল আসে না।

ভর্তি পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিত এই তিনটি বিষয়ের ওপরই প্রশ্ন করা হয়। এর মধ্যে পদার্থ আর গণিতের প্রশ্নগুলো তুলনা মূলক কঠিন হয়। পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিত প্রতি টি বিষয়ে ২০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। মনে রাখতে হবে কোনো ধরনের এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে না।

বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার জন্য কিছু সাজেশনঃ

বিগত বছরের প্রশ্ন গুলো সমাধান করতে হবে। এতে যেমন পরীক্ষার প্রশ্ন সম্বন্ধে ধারণা তৈরি হয়, তেমনি আত্মবিশ্বাস বাড়ে। বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে মডেল টেস্ট দেয়া যেতে পারে। এতে নিজেকে যাচাই করে নেয়া যায়। তবে কোচিং এ না গিয়ে ও নিজেকে যাচাই করা সম্ভব।

সাজেশনভিত্তিক পড়াশোনা করা যাবে না। যারা মনে করছে, শেষ মুহূর্তে সাজেশন ধরে প্রস্তুতি নেবে, তাদের বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা দেয়া টাই বৃথা হবে। অনেকেই বিভিন্ন গাইড বইয়ের ওপর নির্ভর করে প্রস্তুতি নেয়। এটা আদতে কোনো সুফলই বয়ে আনবে বলে মনে হয় না। মূল বইয়ের কোনো বিকল্প নেই এ কথাটি অবশ্য মাথায় রাখতে হবে।

একটা বিষয় মাথায় রাখা জরুরি, বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় অনেকের খারাপ করার প্রধান কারণ বেশি দুশ্চিন্তা বা আতংকে থাকা। অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন যা পড়েছে তার বেশির ভাগই পরীক্ষার হলে গিয়ে ভুলে যায় এবং কঠিন বিষয় গুলো নিয়ে খুব বেশি সময় নষ্ট করে ফেলে। ফলে সহজ প্রশ্ন গুলো সমাধান করে আসতে পারে না। এতে আতংকিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

কোন ভাবেই পরীক্ষার হলে হতাশ হওয়া যাবে না। ঠান্ডা মাথায় চিন্তা ভাবনা করে প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। প্রশ্ন যত কঠিনই হোক না কেন, কোনোমতেই ঘাবড়ানো যাবে না। সব কিছুতে নিজের ওপর আস্থা থাকা চাই। তাহলেই বুয়েটে চান্স পাওয়া সহজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*